শিক্ষক দরদী শহীদ জিয়া

প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশের দুই প্রধান উজ্জ্বল নক্ষত্র(শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি, তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উভয়েই শিক্ষকগণের মঙ্গলের জন্য, শিক্ষা উন্নয়নের জন্য, দেশের কৃষি ও প্রযুক্তি বিপ্লবের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কাজ করেছেন এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকগণের চাকরি বিধি, জাতীয় বেতন স্কেল প্রদান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনন্য অবদান। ঠিক তেমনি বেসরকারি শিক্ষকগণকে অবসরভাতা প্রদান ও অন্যান্য সুযোগ দান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান। এ দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ সত্যিকার অর্থেই এজন্য তাঁর নিকট কৃতজ্ঞ। বর্তমানে শিক্ষকগণের মধ্যে নতুন উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ জিয়ার জন্মদিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, শিক্ষকদের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। এজন্য সরকারকে শিক্ষক সমাজের ধন্যবাদ।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই তিনি বসে থাকেননি, তিনি ছিলেন সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক, এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উদ্ভাবক, সার্কের প্রতিষ্ঠাতা, সৎ ও স্বতন্ত্র্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। দেশের জনগনের ভাগোন্নয়নের জন্য, এ দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাঁর ছিল নিরন্তর প্রচেষ্টা, দরিদ্র জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি চিন্তায় তাঁর হৃদয় আচ্ছন্ন থাকত। তিনি দেশের সকল সেক্টরে বিশেষ কৃরে কৃষি, শিল্প, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং এসব সেক্টরে প্রভূত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগিয়ে দেশকে বিদেশের মাটিতে যেমন ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল করে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি ক্ষুধাক্লিষ্ট-দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত জনগণের ভাগ্য্যোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জন্য, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। তিনি ছিলেন এ দেশের জনগণের অতি দরদী নেতা, আপনজন, বিশেষ করে শিক্ষকগণকে তিনি সবসময়ই সম্মান করতেন, তাদের কথা ধৈর্য ধরে শুনতেন। তিনি সব সময় উপলব্ধি করতেন এ দেশের কৃষি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কারিগরি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ যে কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত জনবল দরকার। দেশ ও জাতিকে উন্নতির ধাপে এগিয়ে নিতে উপযুক্ত শিক্ষকের বিকল্প নেই। তিনি বুঝেছিলেন এ দেশের জনগণকে শিক্ষিত করে গড়েতুলে জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত না করা পর্যন্ত অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না। কারণ শিক্ষিত জনগণই দেশের অমূল্য সম্পদ। তিনি জানতেন বিশ্ববাজারে আমাদের টিকে থাকতে হলে উন্নত দেশের সঙ্গে, আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলতে হবে। দেশে ও দেশের বাইরে আমাদের জনগণকে চাকরি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়-বাণিজ্যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। যদি আমাদের উপযুক্ত শিক্ষিত জনশক্তি গড়ে না ওঠে তবে এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এজন্যই দরকার এই জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সুশিক্ষক। যাতে করে মেধাবী ও ভালো ফল লাভকারীরা শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেন সে চেষ্টা তিনি করেছেন নানাভাবে। তিনি জানতেন যে, উন্নতমানের শিক্ষা অর্জনের জন্য ভাল শিক্ষক, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও সুপরিবেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বলা যায় একে অপরের পরিপূরক। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের পরিচালক-নেতৃত্বদানকারী। তাদেরকে উন্নত নৈতিক মনোবৃত্তির নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ করে তুলতে পারেন একজন উন্নত মানসিকতার ধৈর্যশীল সুশিক্ষিত নাগরিক। শিক্ষার শুরুটাই যদি হয় ভালো শিক্ষক দিয়ে, তাহলে তারাই পারবেন ভালোবাবে গড়ে তুলতে নিজ পরিবারকে, সমাজকে ও দেশকে। প্রকৃত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলবে পুরো জাতিকে। তিনি সবসময় তাঁর বক্তৃতায় ও কাজে গুরুত্ব দিতেন যাতে শিক্ষকগণ হন প্রতিভাবান, ব্যক্তিসত্বসম্পন্ন ও একনিষ্ঠ কর্তব্যপরায়ণ। তিনি সবসময় চাইতেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিজন শিক্ষক যেন হন জ্ঞান-বিজ্ঞানে, নীতি-নিষ্ঠায় সমকক্ষ। শহীদ জিয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষকগণ তাঁদের অধিকার ফিরে পেয়েছিলেন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার।

শিক্ষকগণ সধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। এরা অল্পতেই তুষ্ট। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন এদের অনেকেরই পছন্দ। আর তাঁদের এই উন্নত মন-মানসিকতার জন্যই তাঁরা অধিকার বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন দীর্ঘকাল। প্রেসিডেন্ট জিয়া ছাড়া ইতোপূর্বে কেউ তেমন গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের স্বার্থটা দেখেননি। তিনি ১৯৭৬ সালে আইন পাস করে ৯ মাসের যুদ্ধকালীন মওকুফকৃত ছাত্র বেতনের সমপরিমাণ টাকা মঞ্জুরের নির্দেশ দান করেন। ফলে অনেক শিক্ষকই আর্থিক সংকটে তেমনি পড়েননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠন করেন ‘জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা পরিষদ।’ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া সবসময় শিক্ষকদের কথা শুনতে ভালোবাসতেন। এজন্যই তিনি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগণ নিয়ে মতবিনিময় ও উৎসাহ দেয়ার জন্য সমুদ্র যানে করে (হিজবুল বাহার) বেড়াতে গিয়েছিলেন। কারন প্রকৃতির বিশালতায় মন বড় হয়। মন হয় প্রকৃতির মতই বিশাল। দেশের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পরিবর্তন আনয়নে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষিত হয়। বেসরকারি শিক্ষকগণের চাকরি বিধি না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতৃêপক্ষের খেয়াল-খুশির ওপর নির্ভর করতে হতো। তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করে ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষকগণের জন্য অভিন্ন চাকরি বিধি প্রবর্তনসহ জাতীয় বেতন স্কেলভুক্তির মাধ্যমে মূল বেতনের ৫০% প্রদান করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন করেন।

No comments: