‘আমি মেজর জিয়া বলছি(আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’(এই কণ্ঠস্বর এখনো যেন আমাদের কানে ভাসে। ১৯৭১ খৃস্টাব্দের ২৬মার্চ আমার মতো অনেকেই যারা রেডিওতে এই ঘোষণা শুনেছেন তারা তো তা ভুলতে পারেননি। এমনকি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মনীষী সৈয়দ আলী আহসানও তাঁর ‘আমার সাক্ষ্য’-তে এর বিস্তারিত সাক্ষ্য বিধৃত করেছেন। ২৬ মার্চ সৈয়দ আলী আহসানের জন্মদিন থাকায় তিনি সেই ঘোষণা নিজ কানে সেদিন শুনে বিস্মৃত হননি। জিয়াই যে স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামের কালুর ঘাট রেডিও ট্রান্সমিটার ভবনে তাৎক্ষণিকভাবে স্থাপিত ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ থেকে প্রদান করেন এটা সবাই মানেন। তা ইংরেজিতে এবং বাংলাতে তাঁরই কণ্ঠে সম্প্রচারিত হয়। ২৬ মার্চ, ২৭ মার্চ, এমনকি ২৯ মার্চেও তা প্রচারিত হয়।
২৬ মার্চ ঘোষণা হয়েছিলো বলেই তো ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। জিয়াউর রহমানের জন্ম-জেলা বগুড়ার একটা বৈপ্লবিক অধ্যায় রয়েছে ইতিহাসগতভাবে। প্রাচীন কালে এই অঞ্চলের নাম ছিল পুণ্ডু বর্ধন। ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী ১২০১ খৃস্টাব্দের দিকে বাংলা বিজয় করে এখানে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন হবারও বেশ কিছুকাল পূর্বে পুণ্ডু বর্ধন এলাকায় পরশুরাম নামে এক ভীষণ অত্যাচারী রাজার অত্যাচারে প্রজা সাধারণ জর্জরিত হচ্ছিলো। এই সময় এখানে শাহ্ সুলতান বলখী (রহমাতুল্লাহি আলায়হি) নামে এক মহান সূফীর আগমন ঘটে। তিনি পরশুরামকে শান্তির পথে আহবান জানালেন। রাজা তাঁর আহবানে সাড়া তো দিলোই-না বরং যুদ্ধ ঘোষণা করলো। যুদ্ধে রাজা পরাজিত ও নিহত হলে এখানে শান্তির পতাকা উড্ডীন হলো। দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করলো। শাহ্ সুলতান বলখী এখানে স্থাপন করলেন খানকা বা আস্তানা। মানুষের মুখে মুখে তা মহা আস্তানা নামে পরিচিত হলো। এই মহা আস্তানা অপভ্রংশ হয়ে মহাস্থান নামে মশহুর হয়ে গেলো। পরবর্তীকালে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এখানে স্বাধীন সালতানাতের সোনালী অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলার স্বাধীন সুলতানগণ দিল্লীর অধীনতা মেনে নেননি। ১২৬৬ খৃস্টাব্দের দিকে দিল্লীর সুলতান গিয়াসুদ্দীন বলবন বাংলাদেশ দখল করবার জন্য কয়েকটি অভিযান প্রেরণ করার পর বিফল হয়ে তিনি নিজেই এখানে এলেন এবং বাংলাকে দখল করে তিনি এখানকার শাসনকর্তা নিয়োগ করলেন তাঁরই ছোট সাহেবজাদা বোগরা খানকে। এই বোগরা খানও বাংলার টানে মুগ্ধ হয়ে এখানে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। এই বোগরা খানের নামে এই অঞ্চলের নাম হয়ে গেল বোগরা যা মানুষের মুখে মুখে বগুরা নামে এলাকাটি পরিচিত(অবশ্য ইংরেজিতে কিন্তু এখনও Bogra ই লেখা হয়। ১৭৭৬ খৃস্টাব্দের ১৯ মার্চ এই মহাস্থানে পলাশী-উত্তর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসেনানী ফকীর মজনু শাহ্ তাঁর সংগ্রামের এক পর্যায়ে ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন।
এই ঐতিহাসিক বগুরা জেলা শহর থেকে সাড়ে দশ মাইল দূরে অবস্থিত বাগবাড়ী গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ খৃস্টাব্দের ১৯ জানুয়ারি মুতাবিক ১৩২৯ বাংলা সনের ৫ মাঘ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আব্বা মনসুর রহমান ছিলেন একজন ক্যামিস্ট আর আম্মা জাহানারা খাতুন ছিলেন একজন বিদূষী মহিলা। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম ছিলো কমল। তাঁর দাদা কামালুদ্দীন ছিলেন এলাকার মশহুর আলিম ও মুত্তাকী। ছোটবেলায় এই দাদাজানের কাছে তিনি কুরআন, হাদীস ও দীনীয়াত শিক্ষা লাভ করেন। এবং তখন থেকে নাময পড়া, রোযা রাখা, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদিতে পাবন্দ হয়ে ওঠেন। যা বড় হয়েও তাঁর মধ্যে বর্তমান ছিলো, এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও। গ্রামের শিশু বিদ্যাপীঠে তাঁর স্কুল জীবনের সূচনা হয়। পরে আব্বার কর্মস্থলে কলকাতা হেয়ার স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। ১৯৪৭ খৃস্টাব্দে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটলে তাঁর আব্বা সপরিবারে চাকরি সুবাদে করাচী চলে যান। করাচী একাডেমী স্কুল থেকে ১৯৫৬ খৃস্টাব্দে জিয়াউর রহমান কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়ে ডি.জে. কলেজে ভর্তি হন। তাঁর ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিলো ডাক্তার হবার। তাঁর চাচা মমতাজুর রহমান ছিলেন সেনাবাহীনীর ডাক্তার। ডি.জে. কলেজে অধ্যয়নকালে জিয়াউর রহমানের মধ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার ইচ্ছে প্রবলভাবে জেগে ওঠে। ১৯৫৩ খৃস্টাব্দে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করলেন। ভর্তি হলেন অফিসার ক্যাডেট হিসেবে সামরিক একাডেমীতে। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে তিনি শ্রেষ্ঠ প্যারাট্রুপার হিসেবে তাঁর কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হলেন। ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে তিনি সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। এই সময় তিনি কমান্ডো ট্রেনিং গ্রহণ করেন। বিদেশ থেকেও উচ্চতর সামরিক ট্রেনিং তিনি লাভ করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। ১৯৬০ খৃস্টাব্দের আগস্ট মাসে তিনি দিনাজপুরের ইসকান্দার আলীর কন্যা খালেদা খানব পুতুলকে বিয়ে করেন। ইসকান্দার সাহেবের আসল বাড়ি ফেনীর ফুলগাজীর অদূরে শ্রীপুর গ্রামে। ব্যবসায়ী সুবাদে তিনি দিনাজপুরে এসে বাড়ি করেছিলেন। সেই খালেদা খানম পুতুলই আজকের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।
১৯৬৩ খৃস্টাব্দে জিয়াউর রহমান সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। এই সময়ই তিনি সরাসরি টের পান যে পাকিস্তান শাসকচক্র পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশকে তাদের উপনিবেশ হিসেবে মনে করে। মরহুম মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া প্রদত্ত এক তথ্যে জানা যায় এই সময় জিয়াউর রহমান সময়-সুযোগ পেলেই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা ভাসানীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন এবং একান্তে আলাপ করতেন। ১৯৬৫ খৃস্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর হিন্দুস্থান অতর্কিতে পাকিস্তান হামলা করে। লেগে যায় ভীষণ যুদ্ধ। জিয়াউর রহমান তখন পশ্চিম পাকিস্তানের খেমকারান সেক্টেরের বেদিয়ান যুদ্ধক্ষেত্রে। তখন তিনি ফার্স্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানীর অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে হিন্দুস্থানী বিরাট ট্যাংক বহরের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ সৃষ্টি করে আলফা কোম্পানীর জোয়ানরা হিন্দুস্থানী আক্রমণ প্রতিহত তো করলোই সাথে সাথে হিন্দুস্থানী সেই ট্যংক বহরকে একেবারে তছনছ্ করে ধ্বংস করে দিলো। মেজর জিয়াউর রহমান কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পি. এস. সি. খেতাবে ভূষিত হলেন। তিনি কাকুল সামরিক একাডেমীর ইনস্ট্রাক্টর নিযুক্ত হলেন। ১৯৬৯ খৃস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তাঁকে জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড করে পাঠানো হলো। স্বদেশের মাটিতে ফিরে(দেশে তখন গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে আইয়ূব খানের পতন হয়ে ইয়াহিয়া খান এলেও মওলানা ভাসানীর আহবানে ঘেরাও আন্দোলন, স্বাধীনতার লড়াইয়ের আহবান সম্বলিত এক দফা আন্দোলন জোরে সোরে বিদ্যমান- এসব তিনি অবলোকন করছেন সন্তর্পণে সামরিক বাধ্য-বাধতার মধ্য দিয়েই। ১৯৭০-এর নির্বাচন হয়েছে, তবুও পূর্ব পাকিস্তানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নারাজ পশ্চিমারা। এ সবকে তিনি অবলোকন করছেন। এক অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দিয়ে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পশ্চিমাদের হিংস্রতার চরম চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি শহরে পাক বাহিনীর হামলায়া মারা গেলো অনেক মানুষ। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহীদ হলো অসংখ্য সিপাহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ই. পি. আর সদর দফতর আক্রান্ত হলো। নেমে এলো কালো অমানিশা। নেতারা জাতিকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় হায়নার মুখে ছেড়ে দিয়ে যার যার জান বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে পালালো, তারা আত্নগোপন করতে লাগলো। জাতির সেই দুঃসময়ে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে জাতির পাশে এসে দাঁড়ালেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম কালুর ঘাটের রেডিও ট্রান্সমিটার কেন্দ্রকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র নাম দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন আপনারা দুশমনদের প্রতিহত করুন। দলে দলে স্বাধীনতার যুদ্ধে যোগদান করুন। তিনি তাঁর সেই ঘোষণায় বিশ্ব বিবেককে বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার জন্য আহবন জানালেন।
শুরু হয়ে গেলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। তিনি জেড ফোর্স নাম দিয়ে গড়ে তুললেন এক শক্তিশালী মুক্তি বাহিনী। চট্টগ্রামের রৌমারী সেক্টর তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রাণকেন্দ্রে অনেকগুলো যুদ্ধ পরিচালনা করলেন। সিলেটে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পাক সেনাকে বী করেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় এলো। দেশ হানাদারমুক্ত হলো। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার যে আস্বাদন তা কিন্তু এলো না। এর জন্য জাতিকে আরো অপেক্ষা করতে হলো। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখবার জন্য তিনি বীরোত্তম খেতাবে ভূষিত হলেন। হলেন ব্রিগেডিয়ার। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরই হওয়ার কথা ছিলো বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি। কিন্তু তা তাঁকে করা হয়নি। দেশপ্রেমিক জিয়ার তাতে কোনও ক্ষোভ ছিলো না। দেশপ্রেমই ঈমানের অঙ্গ এই চেতনা তাঁর মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিলো। তাঁকে ডেপুটী চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত করা হলে। তিনি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন। ১৯৭৫-এর মধ্য আগস্টে দেশের পট পরিবর্তন হলো। ২৫ আগস্ট তাকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান করা হলো। তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে পেয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে আনন্দের ঢেউ প্রবাহিত হলো। ইতিপূর্বে সেনাবাহিনী অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় দিন গুজরান করছিলো। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর এক কালো হাত বাংলাদেশের উপর ছায়া বিস্তার করলো। জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হলো, তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান পদ থেকে অপসারণ করা হলো। তা মেনে নিতে পারেননি দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যগণ। বাংলার সাধারণ মানুষও তা মেনে নিতে পারেনি। ৭ নভেম্বর বীর সিপাহীরা জিয়াকে মুক্ত করে আনলো। আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা মারাত্মক এক ষড়যন্ত্রের হাত থেকে আল্লাহর রহমতে রেহাই পেলো। ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত করলো। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ভাষণে বললেনঃ “বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম, প্রিয় দেশবাসী, আমি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী চীফ মার্শাল ল’ এ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থানে সমস্ত ষড়যন্ত্র ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কেউ ন্যাৎ করতে পারবে না(ইনশা আল্লাহ। ......”
১৯৭৬ খৃস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৭-এর ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৮-এর জুন মাসে তিনি বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংক্ষেপে বি.এন.পি। তিনি স্বাধীনতা-উত্তর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা উৎপাটন করে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেন। ১৯৭৯ খৃস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে বি.এন.পি ২২০টি আসন পেলো। জিয়াউর রহামন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করলেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে কিসিঞ্জার বাংলাদেশ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেনঃ তলাবিহীন ঝুড়ি। এই লজ্জাজনক অবস্থা থেকে জিয়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করলেন। মুসলিম বিশ্বের একজন প্রিয় নেতা হিসেবে সবাই তাঁকে গ্রহণ করলেন, আধুনিক বাংলাদেশর স্থপতি হিসেবে তিনি বাংলার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন যা সার্ক নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাঁরই নেতৃত্বের ফলে ১৯৭৮ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও জিয়া এক মহান নেতা হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত হন।
এই মহান নেতা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৮১ খৃস্টাব্দের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আঘাত হানলো। তিনি শহীদ হলেন। তাঁর শোকে ভেঙে পড়লো সমগ্র জাতি। সে যে কি শোকের বন্যা তা ভাষা দিয়ে বলা কঠিন। জিয়া শুয়ে আছেন ঢাকার ক্রিসেন্ট লেক পারে। কিন্তু তিনি যে জাতীয়তাবাদী চেতনা, দেশকে মনে প্রাণে ভালোবাসবার যে চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার যে চেতনা প্রবাহিত করে গেছেন তা ধারণা করেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।
-অধ্যাপক হাসান আবদুল কাউয়ুম
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment